“জেলা স্কুলের ভাইদের মতো সবজায়গায় এইভাবে ত্রান দিলে  ভালো হয়”- অটোচালক সাইফুল

“জেলা স্কুলের ভাইদের মতো সবজায়গায় এইভাবে ত্রান দিলে  ভালো হয়”- অটোচালক সাইফুল

 

ফায়েদ অর্ণব: “জেলা স্কুলের ভাইয়েরা যেভাবে  আমাদের সাহায্য করছে তাতে সবগুলা পরিবার খুশি হইছে। ত্রাণ নেওয়ার সময় কোন বিশৃঙ্খলা হয় নাই। অন্য কোথাও মনে হয় এতো শৃঙ্খলা ছিল না ত্রাণ নেওয়ার সময়” এভাবেই খাদ্য সহায়তা পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন অটোচালক সাইফুল। বরিশাল জিলা স্কুলের ছাত্ররা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকায় যে ৭৫টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছে তার মধ্যে অটোচালক সাইফুল একজন।

করোনায় লকডাউনে দিন এনে দিন খাওয়া বাঘিয়ার ৬৮টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে গত ৩ এপ্রিল সহায়তা করেছিলো বরিশাল জিলা স্কুলের ছাত্ররা। তারা বলেছিলো যতদিন অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে ততদিন তারা এই পরিবারগুলোকে সাহায্য করে যাবেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ৭৫টি পরিবারকে সহায়তা করলো তারা। তবে এবারের খাদ্য সহায়তার ধরণটি ছিলো কিছুটা ভিন্ন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাধ্যমে পরিবারগুলোর মাঝে কুপন পৌছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী কুপনগুলোতে অর্থের পরিমান উল্লেখ করা হয়েছিলো। স্থানীয় একটি দোকান থেকে পরিবারগুলো সেই পরিমান অর্থের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে নেয়। গতকাল এবং আজ কয়েকভাগে ভাগ করে দেয়া সময়ে পরিবারগুলো দোকান থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে নেয়। দোকান থেকে খাদ্য সংগ্রহের পুরো সময়েই তদারকি ছিল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের। যার ফলে কোন বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগই দেখা যায় নি।

সাইফুল বলেন, “পুলিশ বাসায় কুপন দিয়ে গেছিলো। কুপনে লেইখা দেওয়া সময়ে আমরা ঐ দোকান থেকে সবাই সবার দরকারি জিনিস পরিমানমতো নিয়ে আসছিলাম। পুলিশ কোন বিশৃঙ্খলা হইতে দেয় নাই। এলাকার সবাই এইটার সুনাম করছে”। আগে কখনো এরকম সুশৃঙ্খলভাবে ত্রান সাহায়তা করতে তিনি দেখেছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সবখানে ত্রাণ দিতে গেলে মারামারি লাগে, ঝামেলা হয়। কিন্তু এইখানে এইসবের কিছুই হয় নাই। জেলা স্কুলের ভাইদের মতো সবাই এইভাবে ত্রাণ দিলে ভালো হয়।”

বরিশাল জিলা স্কুলের সকল ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রদের সমন্বয়ে এই উদ্যোগে অন্যান্য স্কুল, দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্খীরা অর্থ সহায়তা দিয়েছে।।আর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ শুরু থেকেই পরিবহন, বিতরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পরিবারগুলোকে সহায়তা কার্যক্রমে সহায়তা করছে। যার ফলে পুরো কার্যক্রমে রক্ষা করা গিয়েছে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব।

Digiqole ad Digiqole ad

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *